চিনি ছাড়ার চেষ্টা করলেও আইসক্রিমের প্রতি টান প্রবল! এর কী কারণ বলছে বিজ্ঞান?

‘নো সুগার ক্যাম্পেন’-এর জোয়ারে এখন স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই রোজের খাবারের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিচ্ছেন চিনি। চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন গুড়, মধু কিংবা মেপল সিরাপ। কিন্তু যতই চিনি এড়িয়ে চলার চেষ্টা থাকুক, চোখের সামনে আইসক্রিম দেখলেই ডায়েটের কথা ভুলে যান অনেকেই। কখনও মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে ফ্রিজ খুললে আইসক্রিম টাবের দিকে মন চলে যায়, আবার কখনও মন খারাপের সঙ্গী হয়ে ওঠে আইসক্রিম। কিন্তু এই প্রবল ইচ্ছার পিছনে আসলে কী কাজ করে? তা কি শুধুই অভ্যাস, নাকি শরীরের কোনও সংকেত?

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসক্রিমে থাকা উচ্চমাত্রার চিনি ও ফ্যাট মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামের একটি হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়। এই হরমোন সাময়িকভাবে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে আইসক্রিম খাওয়ার পর মন ভালো লাগে এবং সেই অনুভূতি আবার পেতে মানুষ বারবার আইসক্রিম খেতে চান। অনেকটা নেশার মতোই কাজ করে এই প্রক্রিয়া।

তবে শুধুমাত্র হরমোনের প্রভাবই নয়, শরীরে কিছু পুষ্টির ঘাটতিও আইসক্রিম বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের ঘাটতি থাকলে দুগ্ধজাত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। আইসক্রিম যেহেতু দুধ থেকে তৈরি, তাই শরীরের এই ঘাটতি থাকলে অনেক সময় আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

অতিরিক্ত মানসিক চাপও ‘সুগার ক্রেভিং’-এর বড় কারণ। চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এই হরমোন শরীরের শক্তি কমিয়ে দেয়, ফলে শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য চিনিযুক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এ ছাড়া যাঁরা পর্যাপ্ত ঘুমোন না, তাঁদের ক্ষেত্রেও উচ্চ ক্যালোরির খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেশি দেখা যায়। প্রোটিন কম খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

আইসক্রিম খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু জরুরি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

১) পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং প্রতিদিন ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কলা, আঙুর ও বেদানা মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে সামান্য নুন ও গোলমরিচ দিয়ে খেলে আইসক্রিমের ইচ্ছা অনেকটাই কমতে পারে।

২) টক দইয়ের সঙ্গে অল্প মধু ও বেদানা মিশিয়ে ঠান্ডা করে খেলে স্বাস্থ্যকর মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়।

৩) দুধ ও চিয়া বীজ দিয়ে তৈরি পুডিং ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে ফলের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। এটি পুষ্টিকর এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমায়। আপেল, খেজুর, ওটস ও কাঠবাদাম ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে এক চিমটে দারচিনি মিশিয়ে তৈরি করা স্মুদি ‘সুগার ক্রেভিং’ কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প বেছে নিয়ে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে আইসক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।