উদয়পুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই জনপ্রিয় তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রশ্মিকা মান্দানা। গতকাল, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজস্থানের উদয়পুরের মনোরম পরিবেশে এক রাজকীয় অথচ ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের চার হাত এক হয়েছে। উদয়পুরের বিলাসবহুল ‘আইটিসি মেমেন্টোস একায়া’ (ITC Mementos Ekaaya) রিসোর্টে আয়োজিত এই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধু। গত আট বছর ধরে তাঁদের প্রেম ও সম্পর্কের গুঞ্জন চললেও, বিয়ের মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের জীবনসঙ্গী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। অনুরাগীরা ভালোবেসে এই জুটিকে ‘ভিরোশ’ (ViRosh) নামে ডাকেন, এবং সেই নামকেই সম্মান জানিয়ে এই অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছিল ‘দ্য ওয়েডিং অফ ভিরোশ’।

বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ৮টা নাগাদ। বিজয়ের পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে প্রথমে একটি পূর্ণাঙ্গ তেলুগু রীতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেলের দিকে রশ্মিকার পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী কোদাভা (Kodava) রীতিতেও একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পোশাকে দুজনেই ছিলেন অনন্য। রশ্মিকা একটি লাল রঙের ট্র্যাডিশনাল বেনারসি শাড়ি এবং সোনার গয়নায় সেজেছিলেন, অন্যদিকে বিজয় পরেছিলেন মুক্তো রঙের ধুতি এবং উত্তরীয়। বিয়ের প্রতিটি মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে ‘বরমালা’ এবং মঙ্গলসূত্র পরানোর সময় রশ্মিকার চোখের জল এবং বিজয়ের হাসিমুখ ভক্তদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। বিজয়ের ভাই আনন্দ দেবেরাকোন্ডা সামাজিক মাধ্যমে রশ্মিকাকে ‘ভাদিনা’ (বৌদি) বলে স্বাগত জানিয়ে তাঁদের একটি সুন্দর ছবি পোস্ট করেছেন।

বিয়ের আগে গত দুই দিন ধরে চলেছিল হ্যালদি, মেহেন্দি এবং সংগীতের অনুষ্ঠান। বিয়ের এই উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ভিরোশ প্রিমিয়ার লিগ’ নামক একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের। এছাড়া সংগীতের রাতে বিজয়ের মা তাঁর পুত্রবধূ রশ্মিকাকে পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বালা উপহার দিয়ে বরণ করে নেন। বিয়ের পর এই নবদম্পতি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে দেখা করেছেন এবং তাঁকে তাঁদের আসন্ন রিসেপশন বা প্রীতিভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের এই নতুন জীবনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ পাঠিয়েছেন।

উদয়পুরের এই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের পর আগামী ৪ঠা মার্চ হায়দ্রাবাদের ‘তাজ কৃষ্ণ’ (Taj Krishna) হোটেলে একটি জমকালো রিসেপশনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ভক্তদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সত্যি করে বিজয় এবং রশ্মিকা এখন বাস্তব জীবনের দম্পতি। রুপালি পর্দার রোমান্স থেকে বাস্তব জীবনের এই রূপকথা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং। বিয়ের পর বিজয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ক্যাপশন ছিল, “আমি আমার সেরা বন্ধুকেই আমার স্ত্রী বানিয়ে নিলাম,” যা ভক্তদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁদের নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ (Ranabaali) মুক্তি পেতে চলেছে, যেখানে বিয়ের পর তাঁদের অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি দেখার জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।