প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে দেশজুড়ে বাড়তে থাকা নিরাপত্তার আবহে কলকাতা ও শিলিগুড়িতে আরও কড়া করা হল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
যাত্রী সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলকাতা শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়িতেও জোরদার করা হয়েছে পুলিশি নজরদারি।
বিশেষ নজরে রয়েছে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকা।
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আগমন ও প্রস্থান উভয় টার্মিনালেই চলছে কড়া তল্লাশি। যাত্রীদের হ্যান্ডব্যাগ ও কেবিন লাগেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বাড়তি সতর্কতায়। প্রবেশপথে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টের সংখ্যা।
স্ক্যানারের পাশাপাশি হাতে ধরে তল্লাশিও চলছে। সাধারণ পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিসিটিভি মনিটরিং আরও কড়া করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর তাৎক্ষণিক নজর রাখা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা হুমকির খবর সামনে আসায় রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সেই নির্দেশিকা মেনেই কলকাতা ও শিলিগুড়িতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শুধু বিমানবন্দর নয়, কলকাতা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। হাওড়া ও শিয়ালদহ রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাস, বড় বাজার, শপিং মল, পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা-সহ ভিড় জমে এমন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
রাতের দিকে চলছে মোবাইল প্যাট্রোলিং। প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।
একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বাগডোগরা বিমানবন্দর, নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন, তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি তল্লাশি। শহরের ব্যস্ত বাজার এলাকা, জাতীয় সড়ক সংলগ্ন অঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।
সবমিলিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবসকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতেই কলকাতা ও শিলিগুড়িতে চূড়ান্ত সতর্কতায় প্রশাসন।
