প্রতিবছরই শহর শিলিগুড়ির দুর্গ পূজোয় বিশেষ আকর্ষণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে রবীন্দ্র সংঘ ক্লাব। প্রতি বারের মতন এ বছরও সামাজিক বার্তা নিয়ে পুজোর থিম “নীরব নায়ক”।
উৎসবের মরশুমে শহরের প্রতিটি কোণায় এখন দুর্গাপুজোর রঙ। আলোর ঝলকানি, শিল্পীর কল্পনা আর ভিড় জমা মানুষের উচ্ছ্বাসে সাজ সাজ রব চারিদিকে। এরই মাঝে শিলিগুড়ির অন্যতম দুগ্গা পুজো রবীন্দ্র সঙ্ঘ এ বছর পদার্পণ করল ৭৩ তম বর্ষে। প্রতি বছরই অভিনব থিমের জন্য দর্শকদের নজর কেড়ে নেয় এই পুজো। এবারের তাদের ভাবনা— “নীরব নায়ক”।
আসলে সমাজে এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা আলোচনার কেন্দ্রে কখনও আসেন না। তাঁদের নাম শিরোনামে ওঠে না, তাদের কাজের প্রশংসা করার মতো মানুষও খুব কম। অথচ তাঁদের নিত্যদিনের সংগ্রাম, ঘাম, শ্রম ছাড়া আমাদের জীবন এগিয়ে চলতে পারত না। যেমন—রিকশাচালক, দিনমজুর, কুলি, সাধারণ শ্রমিক বা পথের অচেনা মানুষজন। একেকজনই আমাদের সমাজের অদৃশ্য স্তম্ভ। কিন্তু তবুও তাঁরা নীরব। কোনও প্রেক্ষাগৃহে বা মঞ্চে তাঁদের নামে করতালির ধ্বনি ওঠে না। অথচ আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তাঁদের ভূমিকা অমূল্য সে হলো বাবা।
এই সত্যকেই থিম হিসেবে তুলে ধরেছে শিলিগুড়ি রবীন্দ্র সঙ্ঘ। প্যান্ডেলের ভেতরে শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠেছে জীবনের লড়াই, কষ্ট, হাসি আর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার গল্প। কখনও ভ্যানে নিয়ে ছুটে চলা কুলি বালা, আবার কখনও ঘামে ভিজে রোদে কাজ করা আখের রসের মতন শরীরের ঘাম রক্ত বইয়ে সংসারের কথা ভেবে চলছে বাবা। এ সব কিছুকেই শিল্পীরা রূপ দিয়েছেন আলো-ছায়ার মেলবন্ধনে।
পুজো উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বছর তাদের মূল উদ্দেশ্য হল সমাজের সাধারণ অথচ সত্যিকারের নায়কদের সম্মান জানানো। পরিচালনার দায়িত্বে আছেন শিল্পী সন্দীপন নাথ। আলোকসজ্জায় প্রদীপ রায়চৌধুরী, আর রঙ ও নকশায় হাত লাগিয়েছেন স্বপন খা।
প্রথম থেকেই এলাকার মানুষ এই থিমকে ঘিরে প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই প্যান্ডেলের সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার থিমের বার্তা আত্মস্থ করার চেষ্টা করছেন।
পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, “আমাদের উদ্দেশ্য কেবল সুন্দর প্যান্ডেল বা আলো-সাজ নয়, দর্শকদের মনে একরাশ চিন্তার খোরাক জাগানো। সমাজের সেই অচেনা অথচ প্রকৃত নায়কদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোই আমাদের এবারের পুজোর বার্তা।”
শিলিগুড়ির অন্যান্য নামী পুজোর সঙ্গে টক্কর দিলেও রবীন্দ্র সঙ্ঘের এই বার্তা-ভিত্তিক উদ্যোগ দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলছে বললে আশা করছেন পূজো উদ্যোক্তারা। বলা যায়, এবারের দুর্গোৎসবে “নীরব নায়ক” শুধু একটি থিম নয়, বরং এক সামাজিক বার্তা।
