শিক্ষক সংগঠনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বিদ্যালয়

পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে রাজ্য সরকার ও গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) বড় ধাক্কা খেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিত বসুর সিঙ্গল বেঞ্চ জিটিএ এলাকার ৩১৩ জন শিক্ষক – শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতির মন্তব্য অনুযায়ী, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও বেআইনি ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে যৌথ মাধ্যমিক শিক্ষক কল্যাণ সংগঠন দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের সব বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ের সব বিদ্যালয়ে বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। এতে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, বাম শাসনকালে ১৯৯৯ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাহাড়ের বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ে ৭০০ জনেরও বেশি শিক্ষককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। জিটিএ-র এক বৈঠকে রোশন গিরি ওই সব শিক্ষককে নিয়মিত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। প্রথমে রাজ্য সরকার ওই প্রস্তাবে স্পষ্ট আপত্তি জানালেও পরে সম্মতি দেয়। শুরুতে বিনয় তামাং জিটিএ প্রধান থাকাকালীন ওই শিক্ষকদের চাকরি নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে অনিত থাপা জিটিএ চিফ হওয়ার পর সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। এই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি ত্রিণাঙ্কুর ভট্টাচার্য ও বিনয় তামাংয়ের নাম জড়িয়েছিল। এর পর নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ করা হয়, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ করা হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি তদন্ত করে ৩১৩ জনের নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ পায়। মামলার শুনানিকালে জিটিএ পক্ষ থেকে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়। তবে আদালত সেই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়। এদিকে পাহাড়ের শিক্ষক সংগঠনের সদস্যদের দাবি, গত ২৫ বছর ধরে দার্জিলিং পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা কোন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করবেন? যদি এই ২৫ বছর ধরে সবাই শুধু রিক্রুটমেন্ট রুল বা এসএসসি পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকতেন, তবে দার্জিলিং ও কালিম্পং এলাকার সব বিদ্যালয় বহু আগেই বন্ধ হয়ে যেত। এই ২৫ বছরের সময়কালে দার্জিলিং পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক – শিক্ষিকারা নিজেদের উদ্যোগে সামলে আসছেন। পাহাড়ে ২০০২ সাল থেকেই স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগের একটি প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছিল। এতে শিক্ষক – শিক্ষিকাদের কোনো দোষ নেই, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি রয়েছে বলে তাদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এর জন্য তৎকালীন ডি.জি.এইচ.সি বর্তমান জিটিএ- সহ রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার দায়ী। এর শাস্তি শিক্ষক – শিক্ষিকাদের ভোগ করা উচিত নয়। পাহাড় ও পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দেওয়া উচিত নয়।