সমতলের গাড়িচালকদের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের বিবাদ এবার চরমে পৌঁছাল

শিলিগুড়িঃ বড়দিন এবং বর্ষবরণের মুখে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে অশনি সংকেত। পাহাড় ও সমতলের গাড়িচালকদের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের বিবাদ এবার চরমে পৌঁছাল। সিকিমের ধাঁচে পাহাড়ে সমতলের গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে এবার মঙ্গলবার সমতল থেকে দার্জিলিংয়ের কোনও গাড়িকে যাত্রী বা পর্যটক তুলতে দেবেন না সমতলের গাড়ি চালকরা। সমস্যার সমাধান না হলে সমতলে পাহাড়ের কোনও গাড়িকেই ঢুকতে না দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

বিবাদের মূলে ‘সাইট সিয়িং’: পাহাড়ের চালক সংগঠনগুলির দাবি, সমতলের গাড়িগুলি পর্যটকদের নিয়ে সরাসরি টাইগার হিল, রক গার্ডেন বা পিস প্যাগোডার মতো দর্শনীয় স্থানগুলিতে চলে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের স্থানীয় চালকদের রুটিরুজিতে টান পড়ছে। তাদের দাবি, সমতলের গাড়িকে নির্দিষ্ট পয়েন্টে পর্যটক নামিয়ে দিতে হবে, সেখান থেকে স্থানীয় পাহাড়ের গাড়িতে পর্যটকরা ঘুরবেন। গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল।

পাহাড়ের এই একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে সমতলের গাড়িচালক সংগঠনগুলি। সমতলের চালকদের অভিযোগ, পর্যটক নিয়ে পাহাড়ে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগে মঙ্গলবার থেকে সমতল থেকে পাহাড়ের গাড়িগুলিকে পর্যটক বা যাত্রী নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। সমতলের চালক সমীর পান্ডে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের পাহাড়ে ঢুকতে না দিলে পাহাড়ের গাড়িকেও সমতলে আসতে দেওয়া হবে না।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি জিটিএ-র প্রধান অনীত থাপার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত সমাধান সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন। যদিও পাহাড়ের সংযুক্ত চালক সংগঠনের মুখপাত্র রাহুল শারসা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা আলোচনায় রাজি থাকলেও পাহাড়ে সমতলের গাড়ির বাণিজ্যিক যাতায়াত বা সাইট সিয়িং তাঁরা মানবেন না।

উৎসবের এই মরসুমে এমন অচলাবস্থায় চিন্তিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির পক্ষে সম্রাট সান্যাল ও দীপক মণ্ডল জানিয়েছেন, টাইগার হিলের মতো দর্শনীয় স্থানে পর্যটকরা যেতে না পারলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। এতে শুধু পর্যটকরাই বঞ্চিত হবেন না, বরং দার্জিলিংয়ের সামগ্রিক পর্যটন ব্যবসাই মুখ থুবড়ে পড়বে। একই রাজ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুই রকম নিয়ম চলতে পারে না বলে দাবি তাঁদের।

ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে দার্জিলিং থানায়। উৎসবের মরসুমে এই টানাপোড়েন চললে কয়েক হাজার পর্যটকের পাহাড় সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।