তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছে সিংহী তনয়া

খুশির হাওয়া শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে। আরও তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছে সিংহী তনয়া। সুরজ ও তনয়া এই মুহূর্তে চার শাবকের অভিভাবক। মাস দেড়েক আগেই তিন শাবকের জন্ম হয়। বুধবার সাফারি পার্কে কর্মতীর্থ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র। সেখানেই তিনি পরিবারের নতুন তিন সদস্যের কথা জানান। গৌতম দেব বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাদে কর্মতীর্থের কাজ শেষ হয়েছে। অবশেষে সেটা চালু করা গেল। ১৪টি পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত। এখানেই সিংহের নতুন তিনটি শাবকের জন্ম হয়েছে।’বাঘ, সিংহ থেকে ভালুক- প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে একের পর এক সফল প্রজনন হলেও বেঙ্গল সাফারিতে এখনও পর্যন্ত প্রজননকেন্দ্র চালু করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি রাজ্য সরকার। অথচ পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিংয়ের তোপকেদাড়ার পর সফল প্রজননে নজির গড়েছে সাফারি পার্ক। তবুও কেন এখানে প্রজননকেন্দ্র গড়তে এত গড়িমসি, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বেঙ্গল সাফারিতে এই মুহূর্তে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১৪। অথচ, ওডিশার নন্দনকানন থেকে মাত্র এক জোড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার আনা হয়েছিল এখানে। একজন প্রাণী চিকিৎসক আর একটি ছোট হাসপাতাল। সামান্য পরিকাঠামোতেই সাফল্যের সঙ্গে বাঘের প্রজনন ঘটাচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। একসময় সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, বেশ কয়েকটিকে অন্য চিড়িয়াখানায় পাঠাতে হয়। বাঘ সাফারির জন্য এনক্লোজারের পরিধি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

একজোড়া সিংহ আনা হয় ত্রিপুরার সিপাইজলা চিড়িয়াখানা থেকে। ওই সিংহ জুটিরও সফল প্রজনন হয় সাফারি পার্কে। প্রথম জন্ম নেওয়া তিনটে শাবকের মধ্যে দুটির মৃত্যু হয়। বহু চেষ্টায় একটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়। ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল তনয়া। এবারও তিন শাবকের জন্ম দিল ওই সিংহী। সব মিলিয়ে সাফারি পার্কে সিংহের সংখ্যা বেড়ে হল ছয়। মা ও তার শাবকরা আপাতত সুস্থ। এছাড়া হরিণ, ভালুক, জঙ্গল ক্যাটের সফল প্রজনন হয়েছে পার্কে। রাজ্য উদ্যোগী হলে এই পরিবেশে আরও সফল প্রজনন হতে পারে।