শীত বিদায়ের মুখেও পাহাড়ে ফের তুষারপাত। দার্জিলিংএবং সিকিম -এর একাধিক উচ্চভূমি এলাকায় শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া তুষারপাত সোমবার রাতেও অব্যাহত ছিল। মঙ্গলবার সকালে সান্দাকফু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা পুরু বরফে ঢেকে যায়। একই ছবি দেখা যায় নাথুলা ও সোমগো হ্রদ (চাঙ্গু) সংলগ্ন এলাকাতেও।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দার্জিলিং থেকে সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এমন আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। মূলত হিমালয়ের উপরিভাগেই তুষারপাত চলবে, সমতলে শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে। বসন্তের শুরুতে রডোডেনড্রন ও ম্যাগনোলিয়ার রঙে রাঙা পাহাড়ে বরফের চাদর যেন বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। চা-বাগানও ধীরে ধীরে সজীব হয়ে উঠছে; ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ের মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
তবে মনোরম আবহের মাঝেই পূর্ব সিকিমে ছড়ায় আতঙ্ক। বরফ জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় জওহরলাল নেহরু রোডের সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে কয়েকটি পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় উদ্ধারকাজে নামেভারতীয় সেনাবাহিনী পুলিশ ও জিআরইএফের সহায়তায় ‘অপারেশন হিমরাহাত’ চালিয়ে শিশু-সহ মোট ৪৬ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের ১৭ মাইলের আর্মি ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সেখানেই রাখা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সেনার দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার আপডেট জেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বসন্তের রঙের সঙ্গে অকাল তুষারপাত মিলিয়ে পাহাড়ে এখন এক অনন্য দৃশ্য—তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি সতর্কতাই এখন প্রধান বার্তা।
বসন্তেও দার্জিলিং–সিকিমে তুষারপাত, ‘অপারেশন হিমরাহাত’-এ উদ্ধার ৪৬ পর্যটক
