বিয়ের দিন থেকেই নিখোঁজ, চাঁচলে জঙ্গল থেকে গলাকাটা দেহ উদ্ধারে তীব্র চাঞ্চল্য

মালদার চাঁচল মহকুমার গোরখপুর গ্রামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২৫ জুলাই বিয়ের দিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নাহারুল আলি। বুধবার তাঁর গলাকাটা ও পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কয়েকজন যুবক শৌচকর্ম করতে গিয়ে আমবাগান লাগোয়া জঙ্গলে তীব্র দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তাঁরা নাহারুলের দেহ আবিষ্কার করেন। চাঁচল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নাহারুলকে বেশ কয়েকদিন আগেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের সন্দেহ, এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নাহারুলের আত্মীয় আতাউর রহমান জানান, “ওই দিন নাহারুল বাড়িতে ফোন রেখে গিয়েছিল। পরে ফোনের লক খুলতেই দেখা যায় এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে তাঁর ছবি রয়েছে। ওই মহিলার একদিনে ১০০-র বেশি মিসড কলও ছিল ফোনে।”

পরিবারের তরফে অভিযোগ, ওই মহিলা দুষ্কৃতীদের দিয়ে নাহারুলকে খুন করিয়েছেন। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে তাঁদের তরফে তরুণীর পরিবারকে জরিমানা দিতে হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

চাঁচল থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডু খুনের তদন্তের তদারকি করছেন। এসডিপিও সোমনাথ সাহা জানিয়েছেন, নাহারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করেছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে।

📌 উপসংহার
একটি সম্ভাব্য প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মালদার শান্ত জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।