শিলিগুড়িতে রিকভারি’র নামে দাদাগিরি চ*রমে, চলন্ত বাইক থামিয়ে চাবি ছি*নতাইয়ের চেষ্টা!

শহর শিলিগুড়িতে রিকভারি এজেন্টদের দাদাগিরির অভিযোগ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ঋণ আদায়ের নামে প্রকাশ্য রাস্তায় চলন্ত গাড়ি ও মোটরসাইকেল থামিয়ে চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে বারবার। এবার ফের সেবক রোডে এমনই এক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল।

অভিযোগ, কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে চেকপোস্ট থেকে সেবক রোড ধরে আসা মোটরসাইকেলের আরোহীর পথ আটকায়।

 চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে জোর করে চাবি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় ভয় পেয়ে যান ওই মোটরসাইকেলের আরোহীরা।

মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের লোকজন ও দোকানদাররা ছুটে আসেন ও প্রকাশ্যে এই দাদাগিরির তীব্র বিরোধিতা করেন।

ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, এই ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক আরোহীর মোবাইল ফোন পড়ে ভেঙে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা।

 অভিযোগকারীদের ও স্থানীয়দের সহায়তায় দুই যুবককে আটক করা হয়, যদিও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আটক যুবকরা নিজেদের রিকভারি এজেন্ট বলে দাবি করে। তাদের বক্তব্য, ওই মোটরবাইকের ইএমআই বকেয়া রয়েছে, সেই কারণেই তারা বাইকটি আটক করতে এসেছিল। তবে বাইক আরোহীদের দাবি, বাইকটি তাঁরা সেকেন্ড হ্যান্ড কিনেছিলেন ও কোনও ইএমআই বাকি থাকার বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না। চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে চাবি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ও দাদাগিরিতে তাঁরা ভয় পেয়ে যান বলেও অভিযোগ।

ঘটনার খবর পেয়ে ভক্তিনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক দুই যুবককে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা আদৌ রিকভারি এজেন্ট কিনা, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও সেবক রোডে চারচাকা গাড়ি থামিয়ে রিকভারি এজেন্টদের দাদাগিরির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল।

 স্থানীয়দের অভিযোগ, শিলিগুড়ি শহরে দিনের পর দিন বিভিন্ন ব্যাংকের হয়ে কাজ করা কিছু রিকভারি এজেন্ট কার্যত মাফিয়ার মতো আচরণ করছে।

 সূত্রের খবর, কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের তরফ থেকেই বহিরাগত দাদাগোষ্ঠীকে রিকভারি এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, রিকভারি’র নামে এই দাদাগিরি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। না হলে শহরের রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।