ট্রেন্ডের রঙে বাগদেবী! সমতল ছেড়ে পাহাড় পর্যন্ত ছড়াল ‘কিউটেস্ট’ সরস্বতী পুজোর জোয়ার

পুজো এখন আর শুধু আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে তার রূপ ও ভাষা। বর্তমান প্রজন্মের ট্রেন্ড-মনস্ক ভাবনার প্রভাব এবার স্পষ্ট সরস্বতী পুজোতেও। শিলিগুড়িতে এবছর বাগদেবীর আরাধনায় চোখে পড়ছে এক নতুন ধারা ‘কিউটেস্ট’ সরস্বতী প্রতিমা।

গণেশ পুজো দিয়ে যে ট্রেন্ডের সূচনা, তা একে একে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী ও কার্তিক পুজো পেরিয়ে এবার এসে পৌঁছেছে সরস্বতী পুজোতেও। শিলিগুড়ির কুমোরটুলি ও পালপাড়ায় ঢুঁ মারলেই ধরা পড়ছে বদলের এই হাওয়া। চিরাচরিত প্রতিমার পাশাপাশি দেখা মিলছে ছোট আকারের, কোমল মুখাবয়বের, নরম রঙে সাজানো কিউটেস্ট সরস্বতীর।

শুধু শিল্পীর কল্পনাতেই নয়, ক্রেতাদের ভাবনাতেও ঢুকেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। অনেকেই এখন এআই দিয়ে তৈরি প্রতিচ্ছবি নিয়ে সরাসরি শিল্পীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। কেউ সেই ডিজাইন হুবহু বাস্তবায়ন করছেন, কেউ আবার নিজের শিল্পীসত্তা মিশিয়ে বাগদেবীকে দিচ্ছেন নতুন রূপ।

পুজোর আর মাত্র একদিন বাকি থাকায় প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। অর্ডার থাকুক বা না থাকুক, বহু শিল্পী আগেভাগেই এক-দুটি কিউটেস্ট প্রতিমা তৈরি করে রাখছেন।

তাঁদের বক্তব্য, ট্রেন্ডের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, শেষ মুহূর্তে কেউ এসে কিউটেস্ট প্রতিমা চাইলে যেন খালি হাতে ফিরতে না হয়। তাই সাধারণ প্রতিমার পাশাপাশি সমান্তরালভাবে তৈরি হচ্ছে এই নতুন ধারার প্রতিমাও।

শিল্পীদের মতে, কিউটেস্ট প্রতিমা তৈরি মোটেও সহজ কাজ নয়। ডাইসের উপর গড়ে ওঠা এই প্রতিমায় প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন সূক্ষ্ম কারুকাজ। মুখের গঠন, চোখের অভিব্যক্তি থেকে শুরু করে রঙের ব্যবহার সব ক্ষেত্রেই লাগে বাড়তি মনোযোগ। সাধারণ প্রতিমার তুলনায় সময় ও শ্রম বেশি লাগায় একসঙ্গে খুব বেশি অর্ডার নেওয়া সম্ভব হয় না। সেই কারণেই দাম কিছুটা বেশি হলেও চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।

এই ট্রেন্ড যে আর শুধু সমতলে আটকে নেই, তার প্রমাণ মিলছে পাহাড়েও। শিল্পী সুরজিৎ পাল জানান, সম্প্রতি রংটং-এর একটি ক্লাব থেকে তাঁর কাছে কিউটেস্ট সরস্বতী প্রতিমার অর্ডার এসেছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য চার হাতের বড় আকারের হলেও প্রতিমার রূপ রাখা হয়েছে কিউটেস্ট স্টাইলেই। অন্যদিকে শিল্পী অরূপ পালও জানিয়েছেন, এবছর তাঁর কাছেও এমন একাধিক অর্ডার এসেছে। ক্রেতাদের দেওয়া ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে পরিশ্রম বাড়লেও লাভের দিক থেকে সন্তোষজনক।

সবমিলিয়ে বলা যায়, ট্রেন্ডের এই নতুন ঢেউয়ে শিলিগুড়ির কুমোরশিল্পীদের কাছে কিউটেস্ট সরস্বতী পুজো শুধু নতুন ভাবনার প্রকাশ নয় বরং সমতল থেকে পাহাড়ের রংটং পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এক নতুন আশার আলো।