মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই মায়ের বি*রুদ্ধে ল*ড়াই – ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে চর্চার কেন্দ্রে মা-ছেলের ভোটযুদ্ধ

নির্বাচনের ময়দানে এক বিরল ও আবেগঘন লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। একদিকে বিজেপি প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জি, অন্যদিকে তাঁরই রাজনৈতিক শিষ্য ও ‘পুত্রসম’ তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা।

বৃহস্পতিবার সকালে এক মানবিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন রঞ্জন শীল শর্মা নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে শিখা চ্যাটার্জির বাড়িতে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রচার শুরু করেন ও প্রথম দিনেই দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ভোটের লড়াইয়ে নামেন।

রাজনৈতিক মহলে জানা যায়, শিখা চ্যাটার্জির হাত ধরেই রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন রঞ্জন। দীর্ঘদিন তাঁর কাছেই রাজনৈতিক শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিখা চ্যাটার্জি বিজেপিতে যোগ দেন ও সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন।

অন্যদিকে, রঞ্জন শীল শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে থেকেই শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কাউন্সিলর হিসেবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখেন। এবার সেই রাজনৈতিক সম্পর্কই রূপ নিয়েছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মা-ছেলের এই লড়াই ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

শিখা চ্যাটার্জি ছেলেকে আশীর্বাদ করে বলেন, তিনি যেন শুভবুদ্ধির সঙ্গে মানুষের ও দেশের জন্য ভালো কাজ করেন। অন্যদিকে, রঞ্জন শীল শর্মার বক্তব্য, “শিখা দেবী আমার মা। মাকে প্রণাম করেই আমি প্রচার শুরু করেছি। রাজনীতি আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই আমি এগিয়ে চলবো।”

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম দেবকে পরাজিত করে বিধায়ক হন শিখা চ্যাটার্জি। এবার তৃণমূল এই আসনে রঞ্জন শীল শর্মাকে প্রার্থী করে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের সংগঠন তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলেই মনে করা হয়। সেই জায়গায় শিখা চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রঞ্জনকে সামনে এনে বড় চমক দিয়েছে শাসক দল। এখন প্রশ্ন একটাই মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে শুরু করা এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবেন কে? রাজনৈতিক গুরু মা, নাকি তাঁরই শিষ্য পুত্র? উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের দিনেই।