হাড়কাঁপানো শীতের মাঝরাতে দাঁতালের তাণ্ডবে ঘুম উড়ল আলিপুরদুয়ার ১ এর যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার রাতে জলদাপাড়া বনাঞ্চল থেকে একটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালায়। হাতির হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছে অন্তত ৬টি বাড়ি এবং একটি ধান ভানার মিল। তবে অলৌকিকভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন এক বৃদ্ধা।
গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা মনোবালা বর্মন ঘরে একাই ঘুমোচ্ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ টিনের বেড়া ভাঙার শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই তিনি দেখেন ঘরের ভাঙা বেড়া দিয়ে আস্ত একটি হাতির শুঁড় ভিতরে ঢুকে এসেছে। আতঙ্কে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা, পালানোর ক্ষমতাটুকুও ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাতিটি শুঁড় দিয়ে বৃদ্ধাকে আলতো স্পর্শ করলেও কোনো ক্ষতি না করে পাশের বাড়িতে চলে যায়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত মনোবালা দেবী এখনও সেই বিভীষিকা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এরপর হাতিটি চড়াও হয় প্রতিবেশী পিঙ্কি ওরাওঁয়ের বাড়িতে। পিঙ্কির স্বামী কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন। ঘরে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে চরম আতঙ্কে সিঁটিয়ে ছিলেন তিনি। হাতিটি রান্নাঘরের দেওয়াল ভেঙে মজুত রাখা ভাত ও খাবার সাবাড় করে। তাণ্ডব এখানেই থামেনি, গ্রামের শ্রীমন্ত শর্মার ধান ভানার মিলের টিনের বেড়া ভেঙে ধান ও ভুট্টা খেয়ে ফেলে হাতিটি। জয়দেব বর্মন নামে এক কৃষকের ঘর থেকে প্রায় দুই মন (৮০ কেজি) ধান সাবাড় করে দেয় দাঁতালটি।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের ব্যাংডাকি বিটের বনকর্মীরা। তাঁদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবশেষে হাতিটিকে পুনরায় জঙ্গলে ফেরানো সম্ভব হয়। বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শীতের রাতে বন্যপ্রাণীর এই হানায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ভারত-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এই জনপদের বাসিন্দারা।
