ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করতে পাকিস্তান এবার এক নতুন ও ভয়ংকর ‘দ্বিমুখী সন্ত্রাসবাদী’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, লস্কর-এ-তৈয়বা ও জইশ-এ-মহম্মদের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো রাজস্থানের বিখ্যাত খাতু শ্যাম মন্দিরকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর মূল কারণ হলো এই মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়, যার ফলে এখানে কোনো ছোটখাটো হামলাও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করে ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই পাকিস্তানের বর্তমান ছক। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় সেনাঘাঁটিগুলোর ওপরও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই একটি বড় ধরনের সুপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) রাজস্থান ও গুজরাট সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতীয় সেনাঘাঁটিগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ছোট ছোট দলে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে, যাদের মূল দায়িত্ব হবে সেনার রসদ সরবরাহ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চোরাগোপ্তা হামলা চালানো। একদিকে ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং অন্যদিকে সামরিক শক্তিকে ব্যস্ত রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলে অস্থির দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে। বিশেষ করে খাতু শ্যাম মন্দিরের মতো জনবহুল তীর্থস্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ সেখানে সিসিটিভি এবং মেটাল ডিটেক্টরের নজরদারি এড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া জঙ্গিদের জন্য সহজ হতে পারে।
এই হুমকির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজস্থান পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-কে (BSF) সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে খাতু শ্যাম মন্দিরের প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাঘাঁটিগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত রাডার এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম বসানোর কাজও শুরু হয়েছে যাতে সীমান্তের ওপার থেকে আসা যেকোনো উড়ন্ত বস্তু তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করা যায়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যখন বিশ্বমঞ্চে নিজের অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করছে, তখন পাকিস্তান মরিয়া হয়ে এমন নাশকতামূলক পথ বেছে নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটক এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তি দেখলে অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
