গুজরাটের ভদোদরায় একটি সেতু ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। সোমবার গভীর রাতে ভদোদরার বিশ্বমিত্রী নদীর উপর নির্মিত একটি পুরনো কালভার্ট ধসে পড়ে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সেতুটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধসের সময় সেতুর উপর থাকা একাধিক যানবাহন ও মানুষ নিচে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) ও দমকল বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
ভদোদরার জেলাশাসক এ.বি. গোর জানান, সেতুটি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং সংস্কারের জন্য বিবেচনাধীন ছিল। “সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে সেতুর কাঠামোগত দুর্বলতা আরও বেড়ে গিয়েছিল,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ তিনি লেখেন,
“ভদোদরার দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হোক। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবার ও আহতদের সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। তিনি ঘোষণা করেন, মৃতদের পরিবারকে ₹৪ লক্ষ এবং আহতদের ₹৫০ হাজার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধসের সময় অন্তত তিনটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল সেতু থেকে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বিকট শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরনো ও দুর্বল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত বর্ষা মৌসুমে যেখানে এমন বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ইতিমধ্যেই একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
এই মুহূর্তে সেতুটির আশেপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই অঞ্চলে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
