শিলিগুড়িতে ফের এটিএম লুটের ঘটনায। ভক্তিনগর থানার এলাকার আশিঘর আউটপোস্টের অন্তর্গত লোকনাথ বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম থেকে রাতের অন্ধকারে লুট করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশের সামনেই ঘটে গেল এই অপারেশন। গ্যাস কাটার দিয়ে এটিএম কেটে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ২০ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে।
গভীর রাত, আনুমানিক তিনটে নাগাদ, একটি সাদা রঙের টাটা গাড়ি করে আসে দুষ্কৃতীরা। খুব দ্রুততার সঙ্গে গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ফেলা হয় এটিএম মেশিনটি। লুট চলাকালীন মেশিনে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ী দমকল কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা।
এদিকে, লুট শেষে পালানোর সময় আশিঘর আউটপোস্টের পুলিশ ভ্যানের নজরে পড়ে চার চাকা সাদা রঙের গাড়িটি। এরপর দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করে পুলিশ। কিন্তু ইস্টার্ন বাইপাস হয়ে আশিঘর মোড়, ঘোগোমালি হয়ে ছুটে পালায় গাড়িটি। পুলিশের গাড়ি সেই গতি ধরে রাখতে না পারায়, ফের ফস্কে যায় লুটেরা।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানা-সহ জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলার পুলিশকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই গাড়িটির ট্যাক্সি নম্বর ছিল ও ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ যাতে না থাকে, তার জন্য ক্যামেরায় স্প্রে করে দেয় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনাস্থলে রাতেই পৌঁছায় ভক্তিনগর থানার আইসি ও ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং। তিনি জানান, “দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ধাওয়া করেছিল, কিন্তু পালাতে সক্ষম হয় তারা।”
তবে এটিই প্রথম নয়। গত এক মাসে লাগাতার লুটের ঘটনায় অস্বস্তিতে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।
১৩ জুন ময়নাগুড়িতে ৫৪ লক্ষ টাকার এটিএম লুট এরপর ১৮ জুন শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানায় ১১ লক্ষ টাকার এটিএম লুট তারপর ২২ জুন হিলকাট রোডে সোনার দোকানে ২২ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট
এবার ফের ভক্তিনগর থানার আশিঘর ফাঁড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যেই রাতের বেলায় আরও একটি লুট। ক্রমবর্ধমান এই অপরাধ প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের প্রস্তুতি ও নজরদারির ওপর।
এখন দেখার, একের পর এক লুটের ঘটনার পরেও এবার কি আদৌ দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে পারে শিলিগুড়ি পুলিশ!
