উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এক বিশেষ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিং সফরের শেষ দিনে মহাকাল মন্দির পরিদর্শনের পর তিনি ঘোষণা করেন—শিলিগুড়িতেও দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরের আদলে একটি সুবিশাল শিব মন্দির তৈরি হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে যেমন দীঘায় বিশাল জগন্নাথ মন্দির গড়ে উঠছে, তেমনই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরের আদলে শিলিগুড়িতেও এক সুবিশাল শিব মন্দির তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে, তবে রাজ্য সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই মন্দির শুধু ধর্মীয় ভাবনা নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”
প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটন দপ্তর ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে জমি নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত মন্দিরে আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকবে—যেমন দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহলে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, “শিলিগুড়িতে যদি মহাকাল মন্দিরের আদলে শিব মন্দির হয়, তাহলে পর্যটনের ক্ষেত্রে শহর এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান বাড়বে।”
এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দির পরিসরে ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে মহাকাল দর্শন করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে দীঘার মন্দির যেমন রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, তেমনই শিলিগুড়ির এই প্রকল্প উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় পর্যটনের পরিধি আরও প্রসারিত করবে।
শিবভক্ত ও পর্যটনপ্রেমীদের প্রত্যাশা—শিলিগুড়ির এই নতুন মহাকাল মন্দির একদিন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের মতোই রাজ্যের গর্ব হয়ে উঠবে।
