নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে রাতে এক অভাবনীয় ঘটনায় উদ্ধার হল ৫৬ জন যুবতী। পাটনাগামী ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ওই যুবতীদের উদ্ধার করে নিউ জলপাইগুড়ি জিআরপি ও আরপিএফ যৌথভাবে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, চাকরির প্রলোভনে যুবতীদের পাচার করা হচ্ছিল।
সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্স এলাকা থেকে ওই যুবতীদের নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। আরো জানা যায়, বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজের সুযোগ মিলেছে তাদের। কিন্তু তারা উঠে পড়ে পাটনাগামী ট্রেনে — যা বাড়ায় জিআরপি-আরপিএফের সন্দেহ।
অবাক করার মতো বিষয়, ওই যুবতীদের কারোর কাছেই বৈধ ট্রেন টিকিট ছিল না। হাতে কেবল একটি সিল মারা কাগজে লেখা ছিল কোচ ও বার্থ নম্বর। সন্দেহ হওয়ায় রাত ৯টা নাগাদ জিআরপি ও আরপিএফ ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে যুবতীদের একসাথে দেখতে পায় ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, কলকাতার বাসিন্দা জিতেন্দ্র ও শিলিগুড়ির চন্দ্রিকা নামের এক মহিলা ওই যুবতীদের নিয়ে যাচ্ছিলো। দু’জনকেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনেই আটক করে দফায় দফায় জেরা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের জবানবন্দিতে একাধিক অসঙ্গতি মেলে।
প্রশ্ন উঠে, বেঙ্গালুরুতে কাজের কথা বললেও তারা পাটনাগামী ট্রেনে কেন উঠেছিল, সে বিষয়ে কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। এমনকি কোনওরকম চাকরির নথিপত্রও দেখাতে ব্যর্থ হয় তারা ভুলের সূত্রের খবর।
পরিস্থিতি জটিল দেখে অবিলম্বে ৫৬ জন যুবতীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয়। প্রত্যেকের পরিবারকে খবর দিয়ে ডেকে পাঠানো হয় সাথে নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেয় জিআরপি ও আরপিএফ। বর্তমানে অভিযুক্ত জিতেন্দ্র ও চন্দ্রিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জিআরপি ও আরপিএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা তদন্তে নেমেছেন। আদৌ এই ঘটনার পেছনে কোনও বৃহত্তর পাচারচক্র রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
